পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(১) মুসাইয়িব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিতৃব্য আবু তালেবের যখন মরণকাল উপস্থিত হয়, তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন, ‘হে পিতৃব্য! আপনি ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলুন -এটা এমন এক কালিমা যাকে আল্লাহর নিকট আপনার (মুক্তির) জন্য দলীল স্বরূপ পেশ করব।’ (বুখারী ৩৮৮৪, ৪৭৭২, ৬৬৮১)পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘(পরকালে) আল্লাহ বলবেন, সেই ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে যবের দানা পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে। সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে অণু (বা ভুট্টা) পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে। আর সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে গমের দানা পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে’’ (আহমাদ ৩/২৭৬, তিরমিযী ২৫৯৩, এ হাদীসের মূল রয়েছে সহীহায়নে)পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৩)
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘(কিয়ামতের দিন) আল্লাহ আমার
উম্মতের একটি লোককে বেছে নিয়ে তার সামনে নিরানব্বইটি (আমল-নামা) রেজিষ্টার
বিছিয়ে দেবেন; প্রত্যেকটি রেজিষ্টার দৃষ্টি বরাবর লম্বা! অতঃপর তাকে
জিজ্ঞাসা করবেন, ‘তুমি কি লিখিত পাপের কোন কিছু অস্বীকার কর? আমার আমল
সংরক্ষক ফিরিশতা কি তোমার প্রতি কোন অন্যায় করেছে?’ লোকটি বলবে, ‘না, হে
আমার প্রতিপালক!’ আল্লাহ বলবেন, তোমার কি কোন পেশ করার মত ওযর আছে অথবা
তোমার কি কোন নেকী আছে?’ লোকটি হতবাক হয়ে বলবে, ‘না, হে আমার প্রতিপালক!’
আল্লাহ বলবেন, ‘অবশ্যই আমাদের কাছে তোমার একটি নেকী আছে। আর আজ তোমার প্রতি
কোন প্রকার অবিচার করা হবে না।’ অতঃপর একটি কার্ড বের করা হবে, যাতে লেখা
থাকবে, ‘আশহাদু আল লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ অআন্না মুহাম্মাদান আবদুহু
অরসূলুহ।’ আল্লাহ মীযান (দাঁড়িপাল্লা) আনতে আদেশ করবেন। লোকটি বলবে, ‘হে
আমার প্রতিপালক! এতগুলি বড় বড় রেজিষ্টারের কাছে এই কার্ডটির ওজন আর কী
হবে?’ আল্লাহ বলবেন, ‘তোমার প্রতি অবিচার করা হবে না।’ অতঃপর
রেজিষ্টারগুলোকে দাঁড়ির এক পাল্লায় এবং ঐ কার্ডটিকে অন্য পাল্লায় চড়ানো
হবে। দেখা যাবে, রেজিষ্টারগুলোর ওজন হাল্কা এবং কার্ডটির ওজন ভারী হয়ে
গেছে! যেহেতু আল্লাহর নামের চেয়ে অন্য কিছু ভারী নয়।’’ (আহমাদ ৬৯৯৪, তিরমিযী ২৬৩৯, ইবনে মাজাহ ৪৩০০, হাকেম১/৪৬)
পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৪)
আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নূহ (আঃ) মৃত্যুর সময় তাঁর দুই ছেলেকে অসিয়ত করে
বললেন, ---আমি তোমাকে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (বলার) আদেশ করছি। যেহেতু
যদি সাত আসমান এবং সাত যমীনকে দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় রাখা হয় এবং ‘লা-
ইলাহা ইল্লাল্লাহ’কে অপর পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র
পাল্লা বেশী ভারী হবে। যদি সাত আসমান এবং সাত যমীন নিরেট গোলাকার বস্ত্ত
হয়, তাহলেও ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে।---’’ (আহমাদ ৭১০১, ত্বাবরানী, বায্যার, মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২১৯, সিঃ সহীহাহ ১৩৪)
পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন কিছুকে আল্লাহর শরীক (শির্ক) না করে মারা যাবে, সে ব্যক্তি জান্নাত্ প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি কোন কিছুকে আল্লাহর শরীক (শির্ক) করে মারা যাবে, সে ব্যক্তি দোযখ প্রবেশ করবে।’’ (মুসলিম ২৭৯)পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৬)
ইবনে আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি কোন ব্যাপারে তাঁকে বলল,
‘আল্লাহ ও আপনি যা চেয়েছেন (তাই হয়েছে)।’ তা শুনে তিনি বললেন, ‘‘তুমি তো
আল্লাহর সঙ্গে আমাকে শরীক (বা সমকক্ষ) করে ফেললে! না; বরং আল্লাহ একাই যা
চেয়েছেন, তাই হয়েছে।’’ (আহমাদ ১৮৩৯, বুখারীর আদব ৭৮৩, ইবনে মাজাহ ২১১৭, বাইহাক্বী ৫৬০৩, সিঃ সহীহাহ ১৩৯)
পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭) উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা আমাকে নিয়ে (আমার তা’যীমে) বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনে মারয়্যামকে নিয়ে করেছে। আমি তো আল্লাহর দাস মাত্র। অতএব তোমরা আমাকে আল্লাহর দাস ও তাঁর রসূলই বলো।’’ (বুখারী, ৩৪৪৫, মিশকাত ৪৮৯৭)পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৮) আনাস বিন মালিক কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় পড়লে বলতেন, ‘‘হে চিরঞ্জীব! হে অবিনশ্বর! আমি তোমার রহমতের অসীলায় (তোমার নিকট) সাহায্যের আবেদন করছি।’’ (তিরমিযী ৩৫২৪)পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৯) আবূ সাঈদ খুদরী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর না কি? অথচ আমি তাঁর নিকট বিশ্বস্ত যিনি আকাশে আছেন। আমার নিকট সকাল ও সন্ধ্যায় আকাশের খবর আসে।’’ (বুখারী ৪৩৫১, মুসলিম ২৫০০)পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(১০)
আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ আয্যা অজাল্ল ঘুমান না এবং ঘুম তাঁর জন্য শোভনীয়
নয়। তিনি তুলাদণ্ড (রুযী অথবা মর্যাদা) নিম্ন করেন ও উত্তোলন করেন। তাঁর
প্রতি উত্থিত করা হয় দিনের আমলের পূর্বে রাতের আমল এবং রাতের আমলের পূর্বে
দিনের আমল।’’ (মুসলিম ৪৬৫, ইবনে মাজাহ ১৯৫)
পরিচ্ছদঃ তাওহীদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(১১)
মুআবিয়া বিন হাকাম সুলামীর হাদীসে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ ও
জাওয়ানিয়্যাহর মধ্যবর্তী জায়গায় আমার কিছু ছাগল ছিল, যার দেখাশোনা করত
আমারই এক ক্রীতদাসী। একদা সে পাল ছেড়ে দিলে অকস্মাৎ এক নেকড়ে এসে একটি ছাগল
নিয়ে চম্পট দেয়। আমি আদম সন্তানের অন্যতম মানুষ; মনস্তাপ ও ক্রোধে দাসীকে
চপেটাঘাত করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে সে
কথার উল্লেখ করলে তিনি তা আমার জন্য বড় গুরুত্বর মনে করলেন। আমি বললাম, ‘হে
আল্লাহর রসূল! আমি ওকে মুক্ত করে দেব না কি?’ তিনি বললেন, ‘‘ওকে ডাকো।’’
আমি ওকে ডেকে আনলে তিনি ওকে প্রশ্ন করলেন, ‘‘আল্লাহ কোথায়?’’ দাসীটি বলল,
‘আকাশে।’ তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, ‘‘আমি কে?’’ সে বলল, ‘আপনি আল্লাহর
রসূল।’ তিনি বললেন, ‘‘ওকে মুক্ত করে দাও; যেহেতু ও মুমিন নারী।’’ (মুসলিম ১২২৭, আবু দাঊদ ৯৩১, নাসাঈর কুবরা ১১৪১, প্রভৃতি)
No comments:
Post a Comment